Artificial Intelligence: যেভাবে বদলে দিচ্ছে গতানুগতিক কর্মপদ্ধতি

Artificial Intelligence: যেভাবে বদলে দিচ্ছে গতানুগতিক কর্মপদ্ধতি

কেমন হয় যদি কোন দীর্ঘমেয়াদি কাজ সম্পন্ন হয় মুহূর্তের মধ্যে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence হল এমন একটি মাধ্যম যেখানে আপনি মুহূর্তের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইন্সট্রাকশন প্রদান করে খুব সহজে তা যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারেন।
সহজলভ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুলস সাম্প্রতিক সময়ে বেশ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ব্যবহার ইন্ড্রাস্ট্রিগুলোতে মানুষের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। OpenAi, Chat-GPT, Google BARD এবং Dall-E 2-এর মতো টুলগুলো রিটেন কন্টেন্ট এবং ভিজ্যুয়াল আউটপুট তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ইন্ডাস্ট্রি বা লেখালেখিতে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মীদের প্রয়োজন ছিল সেখানেই Ai এর এই টুলগুলো বেশ সাড়া জাগাচ্ছে।
তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই যে আমরা দিন দিন OpenAi বা ChatGpt উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছি— যদি যন্ত্র আমাদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে তাহলে আমাদের কর্মক্ষেত্র ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? গবেষকদের মতে, একজন অর্থনীতিবিদ এবং একজন প্রকৌশলী উভয়ের জন্যই এই জেনারেটিভ কন্টেন্ট মেকানিজমের উন্নতি বেশ বিস্ময় জন্ম দিয়েছে। কারণ এটি একদিকে যেমন প্রযুক্তির আশীর্বাদ, তেমনি অন্যদিকে মানব সভ্যতার কর্মহীনতার ভয়ংকর সংকেতের পূর্বাভাস।
একই সাথে গোল্ডম্যান শ্যাক্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন Artificial Intelligence এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিছু প্রখর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে দুই-তৃতীয়াংশ নতুন চাকরির চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন নতুন Artificial Intelligence কর্মী অটোমেশনের সংস্পর্শে আসতে পারে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সমস্ত কাজের এক-চতুর্থাংশ জেনারেটিভ OpenAi বা Google Bard দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে।
তাই শঙ্কা এবং উৎকণ্ঠাকে সামনে নিয়ে Artificial Intelligence- যেভাবে বদলে দিচ্ছে গতানুগতিক কর্মপদ্ধতি এ সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়ে থাকছে আজকের আয়োজন জুড়ে। একই সাথে যদি আপনি বিভিন্ন প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন করে নিজের ক্যারিয়ার উন্নত করতে চান, তাহলে ঘুড়ি লার্নিং এর কোর্সগুলো দেখতে পারেন। আর সাবস্ক্রিপশন করলে ১০০+ কোর্স পারবেন মাত্র ৯৯ টাকায়। সাবস্ক্রিপশন প্যাক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন। 
কর্মক্ষেত্রে artificial intelligence এর প্রভাব
Artificial Intelligence (AI) প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আমাদের জীবনযাত্রা এবং কাজ করার পদ্ধতিকে বেশ পরিবর্তন এনেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের মধ্যে একটি হল, Artificial Intelligence গতানুগতিক কর্মপদ্ধতি প্রতিস্থাপন করবে, যা বিশ্বকে ব্যাপক বেকারত্বের দিকে পরিচালিত করবে এবং সম্ভাব্য সামাজিক অস্থিরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যদিও এই ভয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়, কর্মক্ষেত্রে OpenAi এর প্রভাব জটিল এবং বহুমুখী, এবং এটি ব্যবসা ক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য একইভাবে সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই উপস্থাপন করবে। তাই কেন এই প্রযুক্তি মানুষের কর্মক্ষেত্রের উপর প্রভাব বয়ে আনতে পারে তার পেছনের সম্ভাব্য কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১. AI এর সম্ভাবনা
ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষা অনুসারে বলা যায় যে,  ২০৩০ সালের দিকে OpenAi বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উৎপাদন ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার অবদান রাখতে পারে। এই অনুমানের উপর ভিত্তি করে যে, AI ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী GDP ১.২ % বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাইহোক, একই সমীক্ষাটি চাকরির স্থানচ্যুতির সম্ভাবনাকেও তুলে ধরেছে এবং পরামর্শ দেয় যে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন কর্মী AI ত্বরান্বিত হওয়ার কারণে পেশা পরিবর্তন করবে বা নতুন দক্ষতা অর্জন করতে বাধ্য হবে।
২. বর্ধিত দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা
এই উদ্বেগ সত্ত্বেও ChatGPt উল্লেখযোগ্য সুযোগও দেয় এবং আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে OpenAI এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি হল দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। Artificial Intelligence চালিত টুলস পুনরাবৃত্তিমূলক এবং সময়সাপেক্ষ কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করবে, কর্মীদের আরও কৌশলগত এবং সৃজনশীল কাজের উপর ফোকাস করতে সাহায্য করবে। OpenAi উদাহরণস্বরূপ ডেটা এন্ট্রি এবং বিশ্লেষণ, গ্রাহক পরিষেবা অনুসন্ধান এবং এমনকি নিয়োগের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে সাহায্য করবে। এই বর্ধিত দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা খরচ, সঞ্চয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কাস্টমার সেটিসফেকশনের দিকে পরিচালিত করবে।
৩. উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ
কর্মক্ষেত্রে Artificial Intelligence এর আরেকটি প্রভাব হল উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ। এআই-চালিত সরঞ্জামগুলো প্রচুর পরিমাণে ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং নিদর্শন ও অন্তর্দৃষ্টিগুলো সহজে শনাক্ত করতে পারবে। এই বিশ্লেষণটি ব্যবসাগুলোকে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে, গ্রাহকের চাহিদাগুলো অনুমান করতে এবং ভবিষ্যতের প্রবণতাগুলোর পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ, খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতার ধরণ বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং ব্যক্তিগত পণ্য এবং পরিষেবাগুলোর সুপারিশ করতে AI ব্যবহার করবে পারবে।
৪. উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
Artificial Intelligence কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করবে। উদাহরণস্বরূপ, উৎপাদন এবং নির্মাণের মতো শিল্পগুলোতে, OpenAi চালিত রোবট এবং ড্রোনগুলো বিপজ্জনক কাজগুলো সম্পাদন করতে পারবে, দুর্ঘটনা এবং আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস করবে। অতিরিক্তভাবে, OpenAi সম্ভাব্য নিরাপত্তার ঝুঁকি শনাক্ত করতে ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং তা ঘটার আগেই সরঞ্জামের ব্যর্থতার পূর্বাভাস দিতে পারবে, ব্যবসাগুলোকে দুর্ঘটনা রোধ করতে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করবে।
৫. পরিবর্তন এবং নতুন সুযোগ
এটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ যে, AI প্রযুক্তির উত্থানের সাথে, কিছু শিল্প অন্যদের তুলনায় বেশি প্রভাবিত হতে পারে। উৎপাদন ও পরিবহনের মতো শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়োগযোগ্য থাকার জন্য পুনঃস্কিলিং এবং আপস্কিলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। যাইহোক, এআই ট্রেনিং, ডেটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো ক্ষেত্রগুলোতে নতুন চাকরি সৃষ্টির সম্ভাবনা এবং সুযোগগুলো হাইলাইট করা গুরুত্বপূর্ণ। 
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, AI ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৯৭ মিলিয়ন নতুন চাকরি তৈরি করবে, যদিও কিছু বিদ্যমান চাকরি স্থানচ্যুত হতে পারে। উপরন্তু, AI ব্যবসাগুলোকে নতুন বাজারে প্রসারিত করতে এবং নতুন পণ্য বিকাশে সাহায্য করবে, যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটবে। AI এর সাথে সহযোগিতা কর্মক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কারণ এটি আরও ভাল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, সৃজনশীলতা এবং সহানুভূতি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
৬. নৈতিক প্রভাব
যেহেতু AI কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি প্রচলিত হয়ে ওঠে, সেখানে নৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা যায় এবং AI পক্ষপাতিত্বের ভয়ও ভিত্তিহীন নয়, কারণ কিছু AI সিস্টেম জাতি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে পারে।
সম্প্রতি, অ্যামাজন দ্বারা তৈরি একটি এআই নিয়োগের সরঞ্জামটি মহিলাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ এটি গত দশ বছরে কোম্পানিতে জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তের উপর প্রশিক্ষিত ছিল, যা প্রাথমিকভাবে পুরুষদের কাছ থেকে ছিল।
উপরন্তু, এআই ব্যবহার করা যেতে পারে রাজনৈতিক প্রচারাভিযান এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে—  বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু বার্তা তৈরি করে বা ভোটের ফলাফলে হেরফের করে।
এই ধরনের ব্যবহার গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং এমনকি গণতন্ত্র সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ বাড়ায় এবং AI-এর বিকাশ ও ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নৈতিক নির্দেশিকা এবং প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এটি অপরিহার্য যে ব্যবসা এবং ব্যক্তিরা AI এর সম্ভাব্য নৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন এবং এই ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
৭. দার্শনিক দৃষ্টিকোণ
দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, AI এর ব্যাপক ব্যবহার মানুষের মর্যাদা এবং অর্থের ক্ষতি করতে পারে, কারণ কাজ প্রতিনিয়ত স্বয়ংক্রিয় এবং পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে উঠবে। তবে, কেউ কেউ পরামর্শ দেয় যে AI মানুষের জন্য আরও সৃজনশীল হবে; পরিপূর্ণ কর্মক্ষম হওয়ার জন্য নতুন নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হবে। এমনকি কাজের ধরণও পরবর্তন হবে যেখানে মানুষের উন্নতির জন্য এআই বেশ সহায়ক হবে। 

তবে দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ আরও ভোগবাদী হয়ে উঠতে পারে যা মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য  আমাদের এমন একটি বিশ্ব ব্যবস্থা করা উচিত যেখানে AI আমাদের অনেক বিরক্তিকর কাজ প্রতিস্থাপন করেবে, এবং মানুষ তার ক্ষমতা বাড়াবে এবং নতুন নতুন সুযোগ তৈরির হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করবে। এভাবে নির্দিষ্ট কাজের জন্য AI কে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন তাহলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী আরও দ্রুততম হবে। 
৮. এআইকে আলিঙ্গন করা
কর্মক্ষেত্রে AI এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য এবং সুদূরপ্রসারীভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগের পয়েন্ট অনুসারে অবশ্যই বিবেচনা করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে এবং AI এর সুবিধাগুলো যেমন দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতাকে ব্যবহার করে নিজেদের কাজের মাধ্যমকে ডেভেলপ করতে হবে। 

উপসংহার-
প্রযুক্তি আমাদের জীবনে আশীর্বাদ হিসেবে ধরা হলেও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বর্তমানে তা হয়ে উঠেছে অভিশাপের কারণ। যেখানে Artificial intelligence তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। তবে AI কে যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে পারলে তা হবে মানুষের অন্যতম বন্ধু। তাই OpenAi কে আমাদের বিকল্প হতে না দিয়ে চলুন নিজেদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে স্কিলফুল ওয়ার্কফোর্স তৈরির মাধ্যমে নিজেদের Ai এর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। 
যাইহোক সবশেষে যেটা বলতে হয়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের নিত্য-নতুন প্রযুক্তির সাথে মানানসই দক্ষতা বৃদ্ধিতে সময় দেওয়া প্রয়োজন, নাহলে আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশে থেকে পিছিয়ে পড়তে পারি অনেকাংশে। আর ঘুড়ি লার্নিং এর সাবস্কি্রপশন প্যাকের সাথে থেকে আপনার স্কিলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন। ঘুড়ি লার্নিং ব্লগের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 

Related Post

No data found